• No products in the cart.

After Effects of COVID 19 on SME Business

আহসানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিশ্যালয়ের ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড প্রডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের থেকে বের হয়ে এই তাসদীখ হাবিব ভাই হয়ে উঠলেন একজন সমস্যা সমাধানকারী। যেন তেন সমস্যা নয়, এমন একটি সমস্যা নিয়ে তিনি ভাবতে বসলেন যে সমস্যার ভুক্তভোগী এদেশের বহু মানুষ। নিরাপদ পানির যোগানে অনেকে চিন্তিত হলেও তাসদীখ ভাই ধরে ফেললেন একটী চমৎকার বিষয়, তিনি বুঝলেন সরকার নিরাপদ পানির যোগান দিলেও সেই পানি যাচ্ছে আগে বাসার ট্যাংক এ। এবং সেই পানির ট্যাংক যদি পরিস্কার না হয় তবে আদতে নিরাপদ পানি পাওইয়া অসম্ভব।

নিজের বাসায় এমন এক সমস্যার মুখোমুখি হওয়া থেকে শুরু। এরপর আর পিছে ফিরে তাকাননি, ভেবেছেন এর থেকে নিস্তারের উপর, গড়ে তুলেছেন নিজের প্রতিষ্ঠান Clean Force.

 

লাইভ ইন্টারভিউতে যেসকল টপিক কভার করা হবে

  • – Quarantine এ সময় কিভাবে কাটাচ্ছেন?
  • – Entrepreneurial Journey সম্পর্কে আমাদের বলুন
  • – Covid-19 সব চেয়ে ক্ষতির সম্মুখীন হবে কোন কোন বিজনেস সেক্টর
  • – বাংলাদেশের পরবর্তী সম্ভাবনাময় খাত কি কি বলে মনে হয়
  • – একজন ক্ষুদ্র/মাঝারি উদ্যোক্তার এখন কিভাবে সবকিছু গুছানো প্রয়োজন
  • – Business Pivot করার সময় কি এসেছে? আসলে SME উদ্যোক্তারা কোন ধরণের বিজনেস নিয়ে ভাবতে পারে?
  • – হাইপার লোকাল গ্রোসারি বিজনেস এর সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জ
  • – এই মুহূর্তে Freshers দের জন্য আপনার পরামর্শ কি
  • – Clean Force নিয়ে আপনার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি

রেজিস্ট্রেশন করুন

    সফল এই উদ্যোক্তার পেছনের গল্প, বিজনেসে COVID-19 এর ইমপ্যাক্ট ও করোনা পরবর্তী SME Business এর উপর আফটার ইফেক্টস নিয়ে আলোচনা করবো লাইভ ইন্টারভিউ এ । 

    তাসদীখ ভাই আমাদের সাথে থাকবেন ২৩ শে এপ্রিল রোজ বৃহস্পতিবার , রাত ৮ টা থেকে রাত ৯ টা পর্যন্ত ।

    তাসদীখ ভাই লকডাউনে কি করছেন ? কিভাবে কাটাচ্ছেন সময় ?  

    ২৩ তারিখ থেকে লকডাউন এ আছি ভাই, কাটাচ্ছি আদতেই গৃহবন্দী হয়ে। ঘুমাচ্ছি , বই পড়ছি, মুভি দেখছি। ৫ ওয়াক্ত নামায পড়ছি বাসার সবাইকে নিয়ে। খবর দেখছি, খোজ রাখছি সকল দেশের।

     

    ক্লিন ফোর্স নিয়ে যদি কিছু বলতেন তাসদীখ ভাই ।

    ক্লিন ফোর্স আসলে একটি ক্লিনিং কোম্পানি। পানির ট্যাংক এবং পাইপলাইন ক্লিনিং সার্ভিস হিসেবে কাজ করছি দীর্ঘ ২ বছর ধরে । ৪৫০০+ বিল্ডিং কাজ করা হয়েছে, কাজ করছি আরও ৩০০+ ফ্যাক্টরি এবং কমার্সিয়াল বিল্ডিং এর সাথে।

    প্রাতিষ্ঠানিক ভাবে সমস্ত ব্যপারটা দেখাশোনা করার জন্য এই ক্লিন ফোর্স নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি খুব বড় একটা স্বপ্ন নিয়ে। ২০২০ সালের মধ্যে ২০,০০০ বিল্ডীং এর ফ্রি সার্ভিস অফার করেছি আমরা। মার্চ মাসের মধ্যেই প্রায় অনেকদূর কাজ এগিয়ে এনেছি। বাড়ি বাড়ি গিয়ে ফ্রি চেক-আপ করে দিয়ে আসার এই পদক্ষেপ টা বেশ ফলপ্রসু হবে বলেই মনে হচ্ছে ।

     

    বিজনেস লাইন আপের শুরুটা কিভাবে হয়েছিলো ?

    শুরু করেছিলাম ক্লাস এইটে থাকতে। সাল ২০০৪ ; তখন বংগবাজার , নিউমার্কেট থেকে ফতুয়া, টী শার্ট কালেক্ট করে লোকাল ফ্যাশান হাউজে সাপ্লাই করতাম। টিশার্টের বিজনেস এরপর শুরু করি নিজেই । নিজেই টীশার্ট কিনে ডিজাইন করে আগাতে থাকি। চিন্তা করে দেখুন, এই টিশার্ট বিজনেস টা এই ২০২০ এ এসে কিন্তু মার্কেটে তুমুল জনপ্রিয়। ২০০৪-২০০৬ পর্যন্ত এই কাজ করতে থাকি পুরোদমে। সেই সময় মালিবাগের REX এ ও সাপ্লাই দিয়েছি কাপড়। আইডিয়াল স্কুল থেকে ২০০৭ এ যখন এস এস সি দিলাম তার আগেই বাসা থেকে বারন আসলো এই বিজনেসে। ২০১০ সালে তখন একটা মার্কেটিং কোম্পানি তে ঢুকে যাই , শুরু হয় বিজনেসের আরেকটী অধ্যায়। এইচ এস সি শেষে ২ বছরে প্রায় ১২০০ স্টুডেন্ট এডমিট করে দেই এই বিজনেসের সেলিং প্রসিডিউর এ। শেষে বন্ধ হয়ে যায় জটিলতার কারনে।  তখন বলতে গেলে ২০-২৫ জন একদম পথে বসে যাই। তারপর এগিয়ে যাই ফ্রিল্যান্সার ডট কম এর দিকে। SEO নিয়ে সেখানে ১-১.৫ বছর কাজ করলাম UK এর একটী ক্লিনিং কোম্পানির সাথে ।এরপর শিকার হলাম বড়সড় স্ক্যামের, ৫-৬ হাজার ডলারের পেমেন্ট আটকে গেলো। ধাক্কা সামলাতে না পেরে বাংলাদেশেই কিছু শুরু করার চিন্তা করতে লাগলাম। আহসানউল্লাহ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় এ ইন্ডাস্ট্রিয়াল এন্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং এর ২য় বর্ষের স্টুডেন্ট আমি তখন। এই সময়ে ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট এর কোম্পানি খুলে বসলাম । কমার্সিয়াল থেকে শুরু করে যতরকম ইভেন্ট আছে, সব কাভার করলাম এই কোম্পানি নিয়েই টানা দু বছর। এরপর যখন ভার্সিটি থেকে বের হলাম তখন ফেসবুক ইউজার ১০ লাখ ছাড়িয়েছে কেবল। তখন শুরু করলাম ফেসবুক মার্কেটিং । ২০১২ সাল থেকে এড ম্যানেজার হিসেবে কাজ শুরু করলাম। ই-ক্যাব তখন ডাক পেলাম ২০১৪ এর শেষের দিকে । ২০১৫ এর দিকে ঢাকা ভার্সিটি তে ইকমার্স এসোসিয়েশানের প্রথম ওয়ার্কশপ এর প্রথম স্পিকার ছিলাম এই আমি। সবাই চিনে ফেললো হুট করেই, নানান পত্রিকা আর অনলাইন নিউজ পোর্টাল কাভার করে ফেললো এই ওয়ার্কশপ, ছড়িয়ে পড়লাম দ্রুত। কাজ পেতে শুরু করলাম আরও বেশী । সেখান থেকেই পরিচিত হলাম মাল্টিমিডিয়া কিংডমের সাথে। কাজ পেয়ে গেলাম ICT EXPO 2015 এ। ডিজিটাল মার্কেটিং এবং ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট এর সকল কাজ সামলে নিলাম আমার দল নিয়েই। ICT DIVISION এর সাথে মিলে করে ফেললাম একটি অতুলনীয় প্রজেক্ট। এরই মধ্যে Computer Source এর নজর পড়ে গেল আমার উপর। চাকুরীর অফার পেয়ে গেলাম সাথে সাথেই, কিন্তু নাকোচ করে দিলাম নিজ থেকেই। বললাম কাজ করতে চাই নিজের বিজনেস কোম্পানি নিয়েই , চাইলে কোপ্নাই থেকে সাপোর্ট দিতে পারি। Effort360 নামে চলতে থাকা আমার এই কোম্পানি তখন কম্পিউটার সোর্স এর জন্য কাজ করতে লাগলো। আমাকে কম্পিউটার সোর্স এর হেড অফ ডিজিটাল হিসেবে এপয়েনমেন্ট দিয়ে দিলো, সাথে রাখলাম পুরো Effort360 এর পুরো টিম । এরপর আরো বড় ক্লায়েন্ট পেতে শুরু করলাম। কম্পিউটার সোর্স থেকে যখন বের হয়ে এলাম তখন আমাদের  ক্লায়েন্ট লিস্টে যোগ হলো Infinity Megamall, Rich Man, BEOL ( রূপচাদা সয়াবিনের মাদার কোম্পানি ) এবং আরো অনেক । ছোট এজেন্সি কিন্তু বড় ক্লায়েন্ট , সামলাতে হলো বেশ দক্ষ ভাবেই । ২০১৭ সালে শুরু করল্লাম অন্য যাত্রা। ড্রিম ফিগার স্যালারি নিয়ে ঢুকলাম “ইরানী বোরখাবাজার লিমিটেড” এ। ৮ মাস সেখানে কাজ করে আরো স্ট্যাবল করে ফেললাম নিজের টীমকে। এরপর আবার শুরু সেই Team360 তে। ২০০৪ থেকে ২০১৬ সালের এই বিশাল রাস্তায় শিখেছি অনেক কিছু । ২০১৮ সালের মাঝের দিকে হটাত ই বন্ধ হয়ে গেল Team360। অস্ত্র জমা দিয়ে দিলাম ,কিন্তু ট্রেনিং ভুললাম না।

     

    এতো কষ্টের Team360 ভেংগে গেল? তারপর আবার উঠে দাড়ালেন কি করে ?

    হাল ধরলাম নতুন করে। ছোটমামাকে নিয়ে ভাবতে বসলাম নতুন কিছু শুরু করার জন্য। হাতে মোটামুটী বেতনের একটা চাকরী ছিলো, কিন্তু স্বপ্ন ছিলো বিজনেসের। তখনই মাথায় আসে ক্লিনিং সার্ভিসের এই চিন্তা। প্রায় ৩ মাস চিন্তা ভাবনা করলাম ছোট মামা কে নিয়ে । ২০১৮ এর জুলাই থেকে শুরু করলাম “Clean Force”এর যাত্রা। তখনও ছিলো ব্যাকআপ হিসেবে চাকরী, অবশেষে ২০১৯ এর অক্টোবরে এসে সেই জব ও ছেড়ে দিলাম। এখন আছি শুধুই ক্লিন ফোর্স নিয়ে। দীর্ঘ অভিজ্ঞতার জীবনের নানান শিক্ষা কাজে লাগালাম এই ক্লিন ফোর্স এ ।

     

    শুরু করতে না করতেই এসে গেলো কোভিড-১৯, তারপর ?

    কোভিড-১৯ চলে আসলো এরই মধ্যে। ৬৫ জনের এই ক্লিন ফোর্সের দল নিয়ে ২৫ তারিখ থেকেই বসে আছি । কিন্তু কল আসা থেমে নেই, প্রায় ২৫০ এর বেশি কল চলে এসেছে। কাজেই লকডাউন শেষ হলেই যে পূর্ন উদ্দোমে যে মাঠে নামছি তা বলার অপেক্ষা রাখে না। কমিটমেন্ট এর জায়গা থেকে চমৎকার সচ্ছ বলেই টিকে আছি সবাইকে ছাপিয়ে। ইনভেস্টমেন্ট এর ব্যাবস্থা হয়েছে এই কারনেই , কোনো রকম Money Default ছাড়াই বজায় রেখেছিলাম নিজের ব্যাক্তিত্ব। এবং লকডাউনের পরবর্তীতে এই মানুষগুলো আরো সচেতন হবে । পরিস্কার পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখবেন বিশাল অংকের একদম মানুষ, কাজেই সামনে যে এই বিজনেসের স্বর্ন সময় আসতে চলেছে তা মোটামুটি ভাবে বলাই চলে ।

     

    কোভিড-১৯ এর জন্য কোন বিজনেস গুলো খুব বেশী মাত্রায় ক্ষতিগ্রস্থ হবে বলে আপনার ধারনা ?

    ট্রাভেল এবং টুরিজম সেক্টর থাকছে সবার প্রথমে। সবাই কমবেশী ক্ষতিগ্রস্থ হলেও লকডাউন উঠে যাবার পর এই ট্রাভেল এজেন্সি গুলো ঠিক এক দেড় বছরেও ঘুরে দাড়াতে পারবে কিনা এ নিয়ে যথেষ্টই সন্দেহ আছে আমার। এরপর আছে ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট এর দূর্দশা। আরো আছে রিয়েল এস্টেট কোম্পানিগুলো। লাক্সারী প্রোডাক্ট এর বাজারে দেখা যেতে পারে বিশাল ক্ষরা। কারন কোভিড-১৯ চোখে আংগুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়ে গেছে যে কি ছাড়াও আমরা বেচে থাকতে পারি।  আসলে আমরা বুঝতেই পারি না কোনটা inconvenience আর কোনটা  Problem! একটা হচ্ছে সাময়িক অসুবিধা আরেকটি হচ্ছে সমস্যা। এখন একটী বিজনেস শুরু করতে গেলে খেয়াল রাখতে হয় যে এটা আসলে কোনো inconvenience কে সমাধান করে ? নাকি কোনো Problem কে ? আমাদের লক্ষ রাখা উচিত ঠিক কোন প্রবলেম টা কেউ সলভ করার চেষ্টা করছে না। আমাদের কে কমফোর্ট জোন থেকে বের হয়ে আসতে হবে যে কোনো বিজনেস আইডিয়ার জন্য। আর জানতে হবে যে শুধুমাত্র ফেসবুক কিংবা নিজের ফ্রেন্ডলিস্ট ই  কিন্তু বাংলাদেশ না ।

     

    আর কোন বিজনেস গুলো বেশ লাভবান হবে লকডাউন শেষে ?

    কোভিড-১৯ এর পরে মানুষের স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়বে। অর্গানিক ফুডের উপর ভরসা বাড়বে চমৎকার হারে। বেশ কিছুদিন খাবারের আউটলেট গুলো থাকবে ডেলিভারি বেইসড। মানুষের শপিং হতে চলেছে ই-কমার্স সাইটে। আইটি সেক্টরে আসতে চলেছে গনজোয়ার, অনেক মানুষ ডিজিটাল মার্কেটীং সাইটে আসতে চলেছে নিঃসন্দেহে । আবার অনেকসময় নেগেটীভ নিউজেও ব্যাবসা ফুলে ফেপে উঠতে পারে। যেমন এই মহামারী শেষে হয়তো কিছু লোকাল ট্যুরিজমে আসতে চলেছে মানুষের ঢল। এতোদিন ঘরে থাকার পর খোলা বাতাসে আসতে চাইবে হয়তো সবাই । ইন্টারন্যাশনাল ট্যুর হয়তো সম্ভব না তাই হয়তো বিলেত যাবার পরিবর্তে বান্দরবান ছুটে যাবে অনেকেই । লোকাল ট্রান্সপোর্ট এড়িয়ে যেতে সস্তা গাড়ি বা মোটরসাইকেল কেনার ধুম পরে যাবে হয়তো।



    কোভিড-১৯ থেকে এ দেশটা বেঁচে যাবে খুব বড় ক্ষতির হার থেকে, এমন কোনো সুখবর দিতে পারেন?

    কোভিড-১৯ থেকে বেচে আসার কয়েকটা কারন আমাদের থাকতে পারে। আমাদের অর্থনীতি বাচাতে হলে, মানুষগুলো বাচাতে হলে কৃষিতে উন্নতি করতে হবে খুব। একটা কারন হতে পারে আমাদের উর্বর মাটি। যেহেতু আমাদের অর্থনীতি ট্যুরিজম নির্ভর নয়, কাজেই আমাদের ভেংগে পড়ার সম্ভাবনা খুব কম। গার্মেন্টস গুলো সাহায্য করতে পারবে খুব, যদি এরা মেডীকেল ম্যাটারিয়াল গুলো সরবরাহ করতে শুরু করতে পারে। যেমন পিপিই, মাস্ক ইত্যাদি। তারপর এসে যায় আমাদের দেশের ফার্মাসিটীক্যালস গুলোর কথা, এরা তাদের শ্রেষ্ঠ সময় টা দেখাচ্ছে এই সময়ে। ভ্যাকসিনের র ম্যাটারিয়াল কিংবা ফর্মুলা পেয়ে গেলে আমাদের দেশ খুব সহজে তা উৎপাদন করতে পারবে এবং দেশের চাহিদা মিটিয়ে বাইরেও পাঠাতে পারবে ।

     

    SME Business গুলো এই অবস্থায় টিকিয়ে রাখার উপায় কি ?

    SME Business এর টিকে থাকার একমাত্র উপায় হবে কস্ট কাটিং ( Cost Cutting )। এর উপরে আর কোনো উপায় নেই। অনেক ধরনের সুযোগ আসতে পারে। কিন্তু অন্ধ হয়ে তাতেই ঝাপিয়ে পড়া টা বোকামি। দেখতে হবে যে নিজে আসলে ঠিক কতটা দক্ষতা ধারন করেন। আবার অনেকেই সরকারী প্রনোদনার ঘোষনা দেখে প্রবল উত্তেজিত হয়ে পড়েছেন,কিন্তু এটা যে আসলে একটা লোন এবং যার ইন্টারেস্ট ৪.৫% সেটাই বা কজন জানে? তারপরও কথা থাকে ,আপনি চাইলেই সেই প্রনোদনা পাবেন না, সেজন্য আপনাকে বেশ কিছু শর্ত পূরন করতে হবে ।

     

    আপনি যদি মনে করেন ,যে আপনি যে ব্যাবসাটা করি সেটার প্রয়োজন তৈরি হতে সময় লাগবে তাহলে আপনাকে দ্বিতীয়বার ভাবতে হবে। ধরুন, আপনি যদি হুট করেই গ্রোসারি বিজনেসে ঢুকতে চান সেখানের সাপ্লাই চেইন আপনাকে বুঝতে হবে, জানতে হবে যে প্রমিট মার্জিন কেমন। ব্যাপারটা আসলে এমন যে আপনি যদি ১ লাখ টাকার জিনিস কিনেন আর সব যদি ঠিকমতো সেল করতে পারেন তাহলে মাসশেষে ৩ হাজার টাকা লাভ পাবেন। সেটা আদৌ আপনি চাচ্ছেন কিনা । বুঝতে হবে আপনার বিজনেসের বাই প্রোডাক্ট কি কি ? এবং মার্কেটে সেগুলির প্রয়োজনীয়তা কতটুকু ! আপনি আগে ভাবুন যে লকডাউন শেষেই আপনি আপনার বিজনেস ২ মাসে আগের অবস্থায় ফিরে যেতে পারবেন কিনা। যদি তা না হয় তাহলে অন্য সেক্টর নিয়ে ভাবুন , সময় নিন নতুন বিজনেস নিয়ে ভাবার জন্য ।

     

    নতুন গ্রাজুয়েটদের জন্য কিছু শুনতে চাই

    সত্যি কথা বলতে আমাদের ট্রেডিশনাল পড়াশোনার সাথে জব লাইফের কোনো কিছুরই তেমন মিল নেই। অনেকেই ভেবে বসেন যে আমার গ্রাজুয়েশান শেষ আমি অনেক কিছুই জানি , আসলে ব্যাপারটা হচ্ছে আপনি কোনো কোম্পানি তে ঢুকলে আপনাকে কাজ শেখাতেই তারা ৬ মাস ইনভেস্ট করবে। আপনার গ্রাজুয়েশান আছে , সার্টিফিকেট আছে দ্যাটস আ সিম্পল ওকে, এর বেশী কিছুই না। তাই আপাতত যারা শিক্ষার্থী তাদের জন্য বলব আপনারা কেবল স্কিল ডেভেলাপ করুন। কমিউনিকেশান স্কিল, সেলিং স্কিল , পাবলিক স্পিকিং স্কিল, ইমেইল রাইটীং বা ডিজিটাল মার্কেটীং এইগুলো তে ঝালিয়ে নিন। আবার অনেকেই আছেন সেলস এর চাকরী দেখলেই হয়তো ভাবে আমি বিবিএ পড়েছি , মেজর এইচ আর এ , আমি কেন এসব করবো ? কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন,তোমার যেহেতু এক্সপেরিয়েন্স নেই কাজেই তোমার ভ্যালু আমার কাছে শুন্য। এরথেকে কেউ যদি তোমাকে কেবল খাওয়া আর যাতায়াতের খরচ দিয়েও ইন্টার্নশিপ অফার করে , আমি বলল জাস্ট গো ফর ইট ।

     

    আর যারা নতুন বিজনেস শুরু করতে চাচ্ছেন ? তাদের জন্য ?

    আর যারা ভাবছেন বিজনেস করবো, তাদের জন্য বলার থাকবে যে আপনি খুজে বের করুন আপনি কোথায় ইন্টারেস্ট পাচ্ছেন। সেটা ধরতে পারলেই আপনি ভালো করতে পারবেন এবং ভাবতে থাকুন সম্ভাবনাময় সেক্টর ঠিক কোনটি। সেই সম্ভাবনাময় সেক্টরের মার্কেট আসলে ঠিক কতো বড়, আপনি ঠিক কত ভালোভাবে সব সাপ্লাই দিতে পারবেন ।

    May 5, 2020